
বেঙ্গালুরুর সেই আইটি অফিসের পরিবেশ এখন অনেকটা বদলেছে। অন্তত সুমিতের জন্য তো বটেই। যে সুমিত কয়েকমাস আগেও লাঞ্চ ব্রেকে একা বসে থাকত, আজ সে কনফারেন্স রুমে মিটিং লিড দিচ্ছে। বসের গুডবুকে এখন সবার উপরে সুমিতের নাম।
সুমিতের এই অভাবনীয় পরিবর্তন অফিসের বাকিদের নজর এড়ায়নি। বিশেষ করে সুমিতের পাশের ডেস্কেই বসে রজত। রজত ছেলেটা বড্ড চাপা স্বভাবের, কিন্তু কাজের হাত খুব ভালো। তবুও গত দুই বছর ধরে ওর প্রমোশন আটকে আছে। সুমিতের এই হঠাৎ সাফল্য দেখে রজত আর থাকতে পারল না।
একদিন অফিস ক্যান্টিনে কফি খেতে খেতে রজত বলেই ফেলল,
-“ভাই সুমিত, একটা সত্যি কথা বলবি? তুই কি কোনো জাদুকরের খোঁজ পেয়েছিস? নাকি হাতে ওই যে ঘড়িটা পরেছিস, ওটা কোনো লাকি চার্ম? আমার অবস্থা তো দেখছিস, দম বন্ধ হয়ে আসছে এই চাকরিতে।”
সুমিত হাসল। কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল,
-“জাদু নয় রে, একে বলে ‘সঠিক মার্গদর্শন’। আমার কোনো পাথর বা তাবিজ লাগেনি। আমাকে পথ দেখিয়েছেন একজন ভালো জ্যোতিষী মশাই। উনি শুধু জ্যোতিষী নন, উনি জীবনের ডাক্তার।”
সুমিত সব খুলে বলল। কীভাবে সে বাবার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে এবং শনিবার করে খাবার বিলি করে। সব শুনে রজত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ওর চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠল। পকেট থেকে ফোন বের করে জ্যোতিষীর নম্বরটা সেভ করে নিল।
অনাথের ভাগ্য ফেরানোর পথঃ সেই রাতেই রজত ভিডিও কল করল জ্যোতিষীকে। জ্যোতিষী রজতের জন্মছক (Birth Chart) দেখলেন। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
“তোমার ছকে মেধা বা বুদ্ধির অভাব নেই। কিন্তু তোমার লগ্ন এবং চতুর্থ ভাব (মাতৃস্থান ও সুখের ঘর) বড্ড দুর্বল। তোমার জীবনে ‘স্থিতিশীলতা’ বা মানসিক শান্তি নেই। তুমি কি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন?”
রজত ম্লান হাসল। বললঃ -“আচার্যজি, সুমিতের কাছে শুনলাম আপনি ওকে বাবা-মায়ের সেবা করতে বলেছেন। কিন্তু আমার তো সেই ভাগ্য নেই। আমি অনাথ। আশ্রমের দয়ায় বড় হয়েছি। আমার বাবা কে, মা কে—আমি জানি না। আমি এখন ফ্ল্যাটে একাই থাকি। তাহলে কি আমার ভাগ্য ফিরবে না? আমার তো সেবা করার মতো কেউ নেই।”
আচার্যজির চোখ দুটো স্নেহে ভরে উঠল। তিনি শান্ত স্বরে বললেন,
-“কে বলেছে তুমি অনাথ? যার কেউ নেই, তার স্বয়ং মহাদেব আছেন। আর জ্যোতিষ শাস্ত্র তো শুধু রক্তের সম্পর্কের বিচার করে না, আত্মার সম্পর্কের বিচার করে।”
জ্যোতিষী রজতকে বললেন,
-“তোমার মা-বাবা নেই, তাই তোমার প্রতিকার হবে একটু অন্যরকম। কিন্তু এটি অত্যন্ত শক্তিশালী।”
১. রবির প্রতিকার (সূর্যই পিতা): “তোমার জাগতিক বাবা নেই, কিন্তু এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পিতা হলেন ‘সূর্য দেব’। কাল থেকে প্রতিদিন ভোরে সূর্যোদয়ের সময় তুমি পূর্ব দিকে মুখ করে দাঁড়াবে। এক ঘটি জল সূর্যকে অর্পণ করবে (সূর্য অর্ঘ্য)। মনে মনে বলবে— ‘হে আদিত্য, তুমিই আমার পিতা, তুমিই আমার শক্তি’। এই সূর্যের তেজ তোমার ভেতরের অন্ধকার কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেবে।”
২. চন্দ্র ও শুক্রের প্রতিকার (নারীকে মাতৃজ্ঞান): “তোমার মা নেই, তাই চতুর্থ ভাব দুর্বল। এর জন্য তুমি প্রতি শুক্রবার বা পূর্ণিমার দিন তোমার সেই পুরনো আশ্রমে যাবে, যেখানে তুমি বড় হয়েছ। অথবা কোনো বৃদ্ধাশ্রম (Old Age Home)-এ যাবে। সেখানে বয়স্ক মায়েদের সাথে সময় কাটাবে, তাদের প্রয়োজনে ওষুধ বা ফল কিনে দেবে। তাদের মুখের হাসিতে যখন তুমি নিজের মায়ের ছায়া দেখবে, তখন তোমার চন্দ্র শক্তিশালী হবে। তাদের আশীর্বাদ তোমার জীবন বদলে দেবে।”
নতুন এক ভোরের সূচনাঃ রজত চোখের জল মুছল। ওর মনে হলো, ও আর একা নয়। ওর তো অনেক বড় পরিবার আছে।
পরদিন ভোরবেলা। বেঙ্গালুরুর আকাশে তখন সবে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। রজত ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে জল অর্পণ করল। ওর মনে হলো, ভোরের ওই লাল আভা যেন ওর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করছে।
সপ্তাহান্তে রজত ফিরে গেল ওর ছোটবেলার সেই আশ্রমে। কতদিন পর! আশ্রমের বৃদ্ধ কেয়ারটেকার মাসিমা ওকে জড়িয়ে ধরলেন। রজত ঠিক করল, এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে ও এখানেই আসবে।
মাস দুয়েক কেটে গেছে…
রজতের জীবনে কি কোনো পরিবর্তন এল? নাকি সব আগের মতোই আছে? অফিসের সেই রগচটা বস কি রজতের এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারল? নাকি নতুন কোনো বিপদ অপেক্ষা করছে ওর জন্য?
সেটা জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বে।
প্রিয় পাঠক,
রজতের এই গল্প আমাদের শেখায়—রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভক্তি আর সেবার মাধ্যমে ভাগ্য বদলানো সম্ভব। আপনার কী মনে হয়? রজত কি পারবে তার কর্মক্ষেত্রের বাধা কাটাতে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।
সাফল্যের গল্পটি গল্পটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন। গল্পের ৩য় পর্ব (Part 3) পড়তে চাইলে নিচে কমেন্টে লিখুন— “Part 3″। আপনাদের সাড়া পেলেই আমরা পরবর্তী অংশ প্রকাশ করব।
সাথে থাকুন ‘জ্যোতিষ কণ্ঠ‘-এর।










