কনটেন্ট আনলক করুন

এই লিংকটি ভিজিট করলে আপনি ১৬ ঘণ্টা কোনো পপআপ বিজ্ঞাপন ছাড়াই আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবেন।

পেজটির উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভালোভাবে দেখে আসুন।

(লিংক লোড হতে কিছু সময় লাগতে পারে)


পাথর নয়, ভাগ্য ফিরল জ্যোতিষ প্রতিকার দিয়ে: বেঙ্গালুরু প্রবাসী সুমিতের ঘুরে দাঁড়ানোর সাফল্যের গল্প

January 27, 2026 11:18 AM
সাফল্যের গল্প

সাফল্যের গল্পঃ ভারতের আইটি রাজধানী বেঙ্গালুরু। সিলিকন ভ্যালির জৌলুস, আকাশচুম্বী অট্টালিকা আর নিয়ন আলোর ঝলকানি। সুমিত থাকে হোয়াইটফিল্ডের কাছেই একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে। বাইরে থেকে দেখলে যে কেউ বলবে—এটাই তো স্বপ্নের জীবন! মোটা মাইনের চাকরি, নিজের ফ্ল্যাট, সপ্তাহান্তে পার্টি। কিন্তু এই ঝকঝকে ফ্ল্যাটের চারদেওয়ালের ভেতরটা জানত অন্য এক গল্প। সেখানে ছিল সুমিতের দীর্ঘশ্বাস, অনিদ্রা আর তীব্র একাকীত্ব।

গত তিন বছর ধরে সুমিতের ক্যারিয়ার গ্রাফটা যেন থমকে গিয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাচমেটরা তরতর করে এগিয়ে গিয়ে টিম লিড, ম্যানেজার হয়ে গেল, আর সুমিত যেখানে ছিল সেখানেই পড়ে রইল। শুধু তাই নয়, অফিসের পলিটিক্স যেন ওকে গিলে খাচ্ছিল। ভালো কাজ করলেও ক্রেডিট পাচ্ছিল না, উল্টে ছোটখাটো ভুলের জন্য বসের কাছে অপমানিত হতে হচ্ছিল। রাতে ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সুমিত ভাবত, “সব তো ঠিকই ছিল, হঠাৎ কেন এমন হলো? আমার কি যোগ্যতার অভাব, নাকি ভাগ্যটাই খারাপ?”

হতাশা যখন চরমে, তখন মানুষ খড়কুটো আঁকড়ে ধরতে চায়। সুমিতও চাইল। এক বন্ধুর পরামর্শে ও অনলাইনে যোগাযোগ করল দেশের একজন প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর সাথে। জ্যোতিষশাস্ত্রে সুমিতের খুব একটা বিশ্বাস ছিল না, তবুও শেষ চেষ্টা হিসেবে ভিডিও কলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিল।

স্ক্রিনের ওপারে জ্যোতিষীর শান্ত মুখটা ভেসে উঠল। সুমিত নিজের জন্মছকের ডিটেইলস দিল। ওর চোখেমুখে তখন রাজ্যের ক্লান্তি আর বাঁচার আকুতি।
জ্যোতিষী দীর্ঘক্ষণ ধরে ছকটি বিচার করলেন। তারপর চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন, “বাবা, আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার ছকে অর্থের কারক ‘বৃহস্পতি’ আর কর্মের কারক ‘শনি’—দুটোই বেশ পীড়িত অবস্থায় আছে। শনির সাড়ে সাতি বা ধাইয়া হয়তো নেই, কিন্তু শনির দৃষ্টি তোমার কর্মভাবে বাধার সৃষ্টি করছে। তবে…”
সুমিত অস্থির হয়ে প্রশ্ন করল, “তবে কী? আমাকে কি দামী কোনো রত্ন পরতে হবে? রুবি, নীলা বা পান্না? কত টাকা লাগবে বলুন, আমি রাজি। আমি শুধু এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই।”

জ্যোতিষী হাসলেন। এক অভিজ্ঞ অভিভাবকের হাসি। বললেন, “শোনো বাবা, সব রোগের ওষুধ যেমন অ্যান্টিবায়োটিক নয়, তেমনি সব সমস্যার সমাধান পাথর নয়। সমস্যা যখন গভীরে, তখন মলম লাগিয়ে কাজ হয় না, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয়। তোমার ছক বলছে, তোমার আসল সমস্যা হলো সূর্যের দুর্বলতা। রবি হলো আমাদের আত্মা, আত্মবিশ্বাস এবং পিতা। তুমি কর্মসূত্রে দূরে আছ ঠিকই, কিন্তু তোমার শিকড় অর্থাৎ বাবা-মায়ের সাথে তোমার মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে যোজন যোজন।

-সত্যি করে বলো তো, তুমি শেষ কবে মন খুলে বাবার সাথে কথা বলেছ? শেষ কবে তাদের খবর নিয়েছ?”
-সুমিত চুপ করে রইল। কথাটা ধ্রুব সত্য। কাজের চাপে, ডেডলাইনের অজুহাতে আর নিজের ফ্রাস্ট্রেশনে বাড়িতে ফোন করা হয় না বললেই চলে। বাবার সাথে তো কথাই হয় না মাসের পর মাস।
আচার্যজি বললেন, “আমি তোমাকে দুটো কাজ দিচ্ছি। এগুলো কোনো সাধারণ টোটকা নয়, এগুলো হলো ‘কার্মিক রেমিডি’। যদি বিশ্বাস করে করতে পারো, ভাগ্য ফিরতে বাধ্য।”

প্রথম কাজ: রবির প্রতিকার (পিতার আশীর্বাদ) “জ্যোতিষশাস্ত্রে বাবাকে বলা হয় জীবন্ত সূর্য। সূর্য ডুবে গেলে যেমন পৃথিবী অন্ধকার, বাবার আশীর্বাদ না থাকলে সন্তানের জীবনও তেমনি দিশাহীন। তুমি রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে, অফিসে ল্যাপটপ খোলার আগে ভিডিও কল করে তোমার বাবা-মায়ের মুখ দেখবে। মনে মনে তাদের চরণে প্রণাম জানাবে। প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত একদিন, ছুটির দিনে বাবার সাথে ১০ মিনিট গল্প করবে—কাজের কথা নয়, তার শরীরের কথা, তার ভালোলাগার কথা শুনবে। মনে রাখবে, বাবার সন্তুষ্টিই হলো রবির শক্তি।”

দ্বিতীয় কাজ: শনির প্রতিকার (অন্ন সেবা) “শনি দেব হলেন কর্মফলদাতা এবং তিনি শ্রমজীবী বা খেটে খাওয়া মানুষদের প্রতিনিধি। তুমি যেখানে আছ, সেই বেঙ্গালুরুতেই প্রতি শনিবার কোনো অনাথ আশ্রম বা রাস্তার ধারের কোনো ক্ষুধার্ত শ্রমিককে নিজের হাতে এক বেলা খাবার কিনে খাওয়াবে। তাদের পেটে যখন অন্ন পড়বে, তাদের তৃপ্তির নিঃশ্বাস তোমার কর্মক্ষেত্রের সমস্ত নেগেটিভ এনার্জি ধুয়ে দেবে। এটা হলো শনির সেরা প্রতিকার।”

জ্যোতিষীর কথাগুলো ওর মনে গেঁথে গিয়েছিল। ওর মনে হলো, এতোদিন ও ভুল পথেই দৌড়াচ্ছিল।
পরদিন থেকেই ও নিয়মটা শুরু করল। প্রথম দিন ভিডিও কলে বাবাকে দেখে সুমিতের গলা ধরে এসেছিল। বাবার জীর্ণ শরীরটা দেখে ওর মনে হলো, ক্যারিয়ারের পেছনে দৌড়াতে গিয়ে ও নিজের ‘সূর্য’কেই অবহেলা করেছে এতদিন। বাবা প্রথমে অবাক হয়েছিলেন, তারপর ছেলের মুখে হাসি দেখে তিনিও হাসলেন। নিয়মিত কথা বলা আর মনে মনে প্রণাম করার ফলে সুমিত এক অদ্ভুত মানসিক শক্তি পেতে শুরু করল। অফিসে বসের বকুনি এখন আর ওকে বিচলিত করতে পারে না।

আর প্রতি শনিবার?
সুমিত এখন আর উইকএন্ডে অযথা পার্টি করে টাকা ওড়ায় না। ও এখন স্থানীয় এক বস্তির বাচ্চাদের বিস্কুট আর কেক খাওয়াতে যায়। ওদের ধুলোমাখা শরীরের আলিঙ্গন আর নিষ্পাপ হাসি সুমিতের সপ্তাহের সমস্ত স্ট্রেস ধুয়ে মুছে দেয়। ও অনুভব করে, ও আর একা নয়।

চার মাস পরের ঘটনা। অফিসে একটা ক্রিটিক্যাল প্রজেক্ট ডেডলক হয়ে ছিল। কেউ সমাধান করতে পারছিল না। সুমিত নিজের নতুন পাওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে এলো এবং প্রজেক্টটা লিড দিল। অবিশ্বাস্যভাবে, প্রজেক্টটি সফল হলো। যে বস একদিন কথা শোনাতেন, তিনি সবার সামনে সুমিতের পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেলেন।
শুধু তাই নয়, নতুন বছরে যে ইনক্রিমেন্ট আর পদোন্নতি হলো, তা সুমিতের ভাবনার বাইরে ছিল।

সুমিত বুঝল, জ্যোতিষী ঠিকই বলেছিলেন। ভাগ্য কোনো পাথরের আংটিতে থাকে না, ভাগ্য থাকে আমাদের সংস্কারে, বাবা-মায়ের আশীর্বাদে আর মানুষের সেবায়। বেঙ্গালুরুর সেই একলা ফ্ল্যাটটা এখন আর ওর কাছে বন্দিশালা মনে হয় না, কারণ ও এখন জানে—দূরে থাকলেও ওর শিকড়ের আশীর্বাদ ওর সাথেই আছে। গ্রহ-নক্ষত্র তাদেরই সাহায্য করে, যারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে।

আমরা অনেকেই জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকি। কিন্তু মনে রাখবেন, দূরত্ব যেন মনের না হয়। আপনার জন্মছকের গ্রহরা তখনই আপনার সহায় হবে, যখন আপনি আপনার মা-বাবা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করবেন।


Facebook

Join Now

YouTube

Join Now

Leave a Comment