টাকা আর ক্ষমতা থাকলেই কি জীবনে শান্তি মেলে? জ্যোতিষশাস্ত্র বলে—না। মানুষের কর্মফল এবং জন্মছকে গ্রহের অবস্থানই নির্ধারণ করে তার জীবনের প্রকৃত সুখ। ‘জ্যোতিষ কণ্ঠ’-এর আজকের আয়োজনে আমরা নিয়ে এসেছি রজত, সুমিত এবং তাদের অহংকারী বস বিক্রম সেনের গল্প। যারা আগের পর্বগুলো পড়েছেন, তারা জানেন কীভাবে পিতৃ-মাতৃহীন রজত জ্যোতিষীয় উপাচারের মাধ্যমে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। কিন্তু আজকের গল্পে রয়েছে এক অভাবনীয় মোড়। অহংকার কীভাবে পতনের কারণ হয়, তা জানতে পুরো গল্পটি পড়ুন।
১. থমথমে কনফারেন্স রুম এবং রজতের ‘নতুন রূপ’
বেঙ্গালুরুর আইটি অফিসটা আজ সকাল থেকেই থমথমে। ক্লায়েন্টের একটা বড় প্রজেক্টে মারাত্মক গোলমাল হয়েছে। টিম লিডার বিক্রম সেন কনফারেন্স রুমে রীতিমতো চিৎকার-চেঁচামেচি করছেন। বিক্রম মানুষ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ, কিন্তু ভীষণ অহংকারী। তার ধারণা, টাকা আর ক্ষমতা থাকলে দুনিয়ার সবকিছু কেনা যায়। জুনিয়রদের তিনি কখনোই মানুষ বলে মনে করেন না।
আগে হলে এই পরিস্থিতিতে রজত ভয়ে গুটিয়ে যেত, নার্ভাস হয়ে তোতলামি শুরু করত। কিন্তু আজকের রজত একদম আলাদা।
বিক্রম যখন ফাইলটা টেবিলে সজোরে আছড়ে ফেলে বললেন, “রজত! ইউ আর গুড ফর নাথিং! তোমার ভুলের জন্য আজ এই অবস্থা!”
রজত শান্ত চোখে বিক্রমের দিকে তাকাল। তার চোখে বিন্দুমাত্র ভয় নেই, আছে এক অদ্ভুত ধীরতা—যা সে পেয়েছে প্রতিদিন ভোরের সূর্যের কাছে অর্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে। রজত অত্যন্ত ধীর এবং আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল,
“স্যার, চিৎকার করলে তো সমস্যার সমাধান হবে না। লজিক দিয়ে দেখলে বাগটা আমি অলরেডি ফিক্স করে ফেলেছি। এই দেখুন ফাইনাল রিপোর্ট।”
পুরো কনফারেন্স রুম স্তব্ধ। যে ছেলেটা নিজের ছায়াকে ভয় পেত, তার গলায় আজ এত জোর! বিক্রম অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। রজতের চেহারায় এক অন্যরকম আভা, যাকে জ্যোতিষের ভাষায় বলে ‘রবির তেজ’। অনাথ আশ্রমের মায়েদের আশীর্বাদ (চন্দ্র) আর সূর্য দেবের কৃপা তাকে ভেতর থেকে ইস্পাতের মতো মজবুত বানিয়ে দিয়েছে।
সেদিন বিকেলেই অফিসের ইমেইলে নোটিফিকেশন এল। ক্লায়েন্ট রজতের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে স্পেশাল মেইল পাঠিয়েছে। ম্যানেজমেন্ট থেকে রজতের প্রমোশন কনফার্ম করা হলো।
২. কর্মফলের খেলা: সফল বসের আড়ালে এক নিঃস্ব মানুষ
গল্পের আসল মোড় শুরু হলো ঠিক এরপরই। সেই সন্ধ্যায় বিক্রম নিজের আলিশান কেবিনে বসে মাথায় হাত দিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে তাকে অত্যন্ত সফল এবং ক্ষমতাবান মনে হলেও, ভেতরটা তার তুষের আগুনের মতো পুড়ছে।
গত পরশু তার স্ত্রী ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছে। একমাত্র ছেলেটা বাজে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ড্রাগসে আসক্ত, এখন রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি। আর আজ সকালে ডাক্তার রিপোর্টে জানিয়েছেন, বিক্রমের হাই ব্লাড প্রেশার আর এনজাইটি যে বিপজ্জনক লেভেলে পৌঁছেছে, তাতে যেকোনো সময় ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
বিক্রম তার কেবিনের কাঁচের দেয়াল দিয়ে বাইরের ডেস্কে তাকালেন। দেখলেন, সুমিত আর রজত হাসিমুখে ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির জন্য বের হচ্ছে। ওদের চোখেমুখে কোনো ক্লান্তি নেই, আছে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। বিক্রমের মনে হলো, তার কোটি টাকার ফ্ল্যাট আর বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়ি তাকে রাতে দু’চোখের ঘুম এনে দিতে পারছে না, অথচ এই সাধারণ বেতনের ছেলেগুলো কী সুখে দিন কাটাচ্ছে!
৩. অহংকারের পতন ও সত্যের খোঁজ
অহংকারের পর্দা সরিয়ে বিক্রম ইন্টারকম টিপে সুমিত আর রজতকে নিজের কেবিনে ডাকলেন। ওরা ঢুকতেই বিক্রম অত্যন্ত লজ্জিত মুখে বললেন,
“গাইজ, দরজাটা বন্ধ করো। আমি আজ তোমাদের বস হিসেবে নয়, একজন সর্বস্বান্ত ও হারতে থাকা মানুষ হিসেবে কথা বলছি। তোদের কাছে কী এমন জাদু আছে বল তো? তোরা দিনে দিনে উপরে উঠছিস, আর আমি সব থেকেও ভেতর থেকে কাঙাল হয়ে যাচ্ছি!”
সুমিত আর রজত মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। সুমিত বিনীতভাবে বলল, “স্যার, আমাদের কাছে কোনো জাদু নেই। আমাদের কাছে আছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় জ্যোতিষ মশাই। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—সাফল্য শুধু স্কিলে বা যোগ্যতায় আসে না, প্রকৃত সাফল্য আসে গ্রহের আশীর্বাদ আর সঠিক কর্মের মাধ্যমে।”
বিক্রম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আমার মতো পাপীর কি কোনো উপায় আছে? আমি সারাজীবন ক্ষমতার অহংকারে শুধু মানুষকে ছোটই করেছি, কষ্ট দিয়েছি।”
রজত পকেট থেকে জ্যোতিষীর নম্বরটা বের করে বসের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “স্যার, সূর্যের আলো পৃথিবীর সবার জন্যই সমান। আপনিও নিশ্চয়ই পথ পাবেন।”
৪. জ্যোতিষীর বিশ্লেষণ: রাহু বনাম বৃহস্পতির লড়াই
সেই রাতেই নিজের সব অহংকার বিসর্জন দিয়ে বিক্রম সেন কল করলেন আচার্যজিকে।
জ্যোতিষী বিক্রমের জন্মছক (Birth Chart) নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে গম্ভীর স্বরে বললেন,
“তোমার ছকে ‘রাহু’ অত্যন্ত তুঙ্গস্থ এবং শক্তিশালী। রাহুর প্রভাবে তুমি জীবনে প্রচুর টাকা, পজিশন আর ক্ষমতা পেয়েছ। কিন্তু তোমার ছকে ‘বৃহস্পতি’ (যা জ্ঞান, ধর্ম, সন্তান এবং দাম্পত্য সুখের কারক) প্রায় মৃত। তুমি জীবনে মানুষকে মানুষ মনে করোনি, নিজের জ্ঞানের অহংকারে সবাইকে অপমান করেছ। তাই আজ তুমি এত সম্পদের মাঝেও সম্পূর্ণ একা।”
বিক্রম ডুকরে কেঁদে উঠলেন। “আচার্যজি, আমি সব করতে রাজি, আমাকে একটু শান্তি দিন।”
জ্যোতিষী শান্ত স্বরে বললেন, “তোমার কর্মের পাপের ভার অনেক বেশি। সাধারণ কোনো টোটকা বা আংটিতে তোমার কাজ হবে না। তোমাকে এমন এক কঠিন ব্রত বা প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে, যা তোমার এই আকাশছোঁয়া অহংকারকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। তুমি কি পারবে সেই শর্ত মানতে?”
প্রিয় পাঠক,
এই গল্পটি আমাদের শেখায়— “তৃণাদপি সুনীচেন”। অর্থাৎ, ঘাসের চেয়েও নিচু ও বিনয়ী হতে জানলে তবেই জীবনে প্রকৃত শান্তি পাওয়া যায়। অহংকারই হলো পতনের মূল কারণ। জন্মছকে গ্রহ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কর্মফল কাউকেই ছেড়ে দেয় না।
আপনার কী মনে হয়? বিক্রম সেন কি পারবেন আচার্যজির সেই কঠিন শর্ত মানতে? আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানান।
গল্পটি পড়ে ভালো লাগলে একটি লাইক দিন এবং আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করুন।
গল্পের ৪র্থ পর্ব (Part 4) বা শেষ পর্ব দ্রুত পড়তে চাইলে কমেন্টে লিখুন— “Part 4“।
সবসময় সঠিক পথে চলতে এবং গ্রহের সঠিক মার্গদর্শন পেতে সাথে থাকুন ‘জ্যোতিষ কণ্ঠ‘-এর।










